Open your eyes and see the beauty of this wonderful world. – Kailash Satyarthi
স
ত্যিই আমাদের পৃথিবীতে এমন অনেক আশ্চর্যজনক জায়গা রয়েছে, যেগুলির স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য আমাদের অবাক করে দেয়। তবে হ্যাঁ, এই সমস্ত রহস্যজনক জায়গাগুলোর নির্মাণের পেছনে অবশ্যই রয়েছে বৈজ্ঞানিক যুক্তি। যেমন ধরা যাক বিশ্বের সর্বাধিক বৃষ্টিপাতযুক্ত জায়গা হিসেবে মেঘালয়ের নাম আমরা সকলেই জানি। ঠিক তেমনি বিশ্বের অপরপ্রান্তে এমন এক জায়গারও হদিস পাওয়া যায় যেখানে সারা বছর একফোঁটাও বৃষ্টি হয় না। এবং এই জায়গাকে যদি আপনি মরুভূমির প্রান্তে থাকা কোনো গ্রাম মনে করেন, তাহলে শুরুতেই বলি, ‘না!’ এই গ্রাম বেশ সমৃদ্ধশালী এবং এই গ্রামে বছরের পর বছর মনুষ্য প্রজাতি বাসও করে আসছে।
গ্রামের নাম আল হুতাইব। ইয়েমেনের রাজধানী সানার প্রশাসনিক এলাকা জাবল হারজের পার্বত্যাঞ্চলের এই গ্ৰাম অবস্থিত। সমৃদ্ধ এই গ্ৰামে সবকিছুই রয়েছে। কিন্তু এই গ্ৰামে কখনো কোনোদিন বৃষ্টি পড়েনি।
একাদশ শতাব্দীতে এই অঞ্চলে সুলাইহিদ রাজবংশের দুর্গ ছিল, যার অনেক সৌধ আজও টিকে আছে। এই অঞ্চলেই ইয়েমেনের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জাবাল আন-নবী শু’য়ব এবং আরব উপদ্বীপ অবস্থান করছে।
তিহামাহ উপকূলীয় সমভূমি এবং সানার মধ্যে অবস্থানের কারণে এই পার্বত্য অঞ্চলটি ঐতিহাসিক দিক থেকে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। হিমিয়ার রাজত্বকালে এটি ক্যারাভানদের জায়গা, এবং পরে জাবল হারজ অঞ্চল সুলাইহিদ রাজবংশের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে ইয়েমেনে প্রতিষ্ঠিত হয় ১০৩৭ সালে। তারপর ধীরে ধীরে এই অঞ্চল শিয়া মুসলমানদের হাতে চলে যায়।
শুষ্ক মরুভূমির মধ্যেও কখনও না কখনও বৃষ্টির ছোঁয়া লেগেছে। তাহলে এই অঞ্চলের বৃষ্টি না হওয়ার কারণ কী? বৃষ্টি হতে গেলে আগে মেঘের উপস্থিতি দরকার। মেঘ সাধারণ সমতল থেকে ২০০০ মিটার উচ্চতায় ঘনীভূত হয়। কিন্তু এই গ্ৰাম সমতল থেকে ৩২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। তাই ওই স্থানের আকাশে কখনও মেঘের আনাগোনা দেখা যায় না, ফলে এই গ্রামে বৃষ্টিও পড়ে না।
আল হুতাইব গ্রামটি লাল বেলেপাথরের প্লাটফর্মে নির্মিত পাহাড়ের দৃশ্যের মুখোমুখি অবস্থিত। গ্রামটিতে দুটি স্কুল ও দুটি মসজিদ রয়েছে যার নাম হাতিমি মসজিদ এবং মনসুর আল ইয়েমেন মসজিদ। ‘দ্যা কেভ অফ্ ব্লেসিংস’ (আরবীতে কাহফ আন-নাইম নামে পরিচিত) হুতাইব দুর্গের দক্ষিণে অবস্থিত। পর্যটকদের জন্য বেশ আকর্ষণীয় স্থান এটি।
আল হুতাইব গ্রামভূপৃষ্ঠ থেকে ৩২০০ মিটার উচুঁতে হওয়ায় এখানকার আবহাওয়া রুক্ষ প্রকৃতির। দিনের বেলায় থাকে প্রচণ্ড গরম। আর রাতের দিকে হিমশীতল ঠান্ডা নেমে আসে গ্রামে। কিন্তু সূর্য উঠতেই আবহাওয়া আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাহাড়ের কোলে পাথর কেটে কেটে বাড়িগুলি যেভাবে তৈরি করা হয়েছে, তা নৈসর্গিক। প্রাচীনের সঙ্গে আধুনিকতার মিশেল গ্রামটির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
২০০২ সালের ৮ জুলাই ইউনাইটেড নেশনস এডুকেশনাল, সাইন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন (UNESCO) প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বিভাগে এই আশ্চর্য অঞ্চলটিকে ‘World Heritage Site’ আখ্যা দিয়েছে।



4 মন্তব্যসমূহ
Great information !
উত্তরমুছুনবাহ্ অসাধারণ তথ্যবহুল লেখা
উত্তরমুছুনবেড়ে হয়েছে মশাই!!
উত্তরমুছুনখাসা হয়েছে!!!
খুব ভালো হয়েছে। ❤
উত্তরমুছুন